প্রতি বছর নভেম্বর মাস আসলেই বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীর মাথায় একটাই চিন্তা ঘুরতে থাকে — এ বছর কত টাকা আয়কর দিতে হবে? ট্যাক্স স্ল্যাব বুঝতে না পেরে অনেকে হয় বেশি কর দেন, নয়তো রিটার্ন দাখিলে ভুল করেন। BDCalculator এর আয়কর ক্যালকুলেটর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী তৈরি। বার্ষিক আয় ও করদাতার ধরন দিলেই মুহূর্তে জানতে পারবেন আপনার প্রকৃত করের পরিমাণ — কোনো জটিল হিসাব ছাড়াই।
আয়কর কী এবং কেন দিতে হয়?
আয়কর হলো আপনার বার্ষিক আয়ের উপর সরকারকে প্রদত্ত সরাসরি কর। বাংলাদেশে আয়কর সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (National Board of Revenue বা NBR)। এই করের অর্থ দিয়ে সরকার রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ দেশের উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করে।
বাংলাদেশে আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় হলে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। শুধু কর দেওয়াই নয়, সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানাও গুনতে হয়।
কাদের আয়কর দিতে হবে? (২০২৫-২০২৬ করবর্ষ)
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী করদাতার ধরনভেদে করমুক্ত আয়ের সীমা আলাদা।
সাধারণ পুরুষ করদাতার জন্য বার্ষিক আয় ৩,৫০,০০০ টাকার বেশি হলে, নারী এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব করদাতার জন্য ৪,০০,০০০ টাকার বেশি হলে, তৃতীয় লিঙ্গ এবং প্রতিবন্ধী করদাতার জন্য ৪,৭৫,০০০ টাকার বেশি হলে এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার জন্য ৫,০০,০০০ টাকার বেশি আয় হলে কর প্রযোজ্য হবে।
২০২৫-২০২৬ করবর্ষের কর স্ল্যাব
সাধারণ করদাতার জন্য প্রথম ৩,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। এরপর পরবর্তী ১,০০,০০০ টাকার উপর ৫%, তার পরের ৪,০০,০০০ টাকায় ১০%, পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকায় ১৫%, তার পরের ৫,০০,০০০ টাকায় ২০%, এবং পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকায় ২৫% হারে কর প্রযোজ্য। এর উপরের যেকোনো আয়ে ৩০% হারে কর দিতে হবে।
২০২৬-২০২৭ করবর্ষে কী পরিবর্তন আসছে?
আগামী ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ থেকে নতুন কর কাঠামো কার্যকর হবে। সাধারণ করদাতার করমুক্ত সীমা ৩,৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,৭৫,০০০ টাকা করা হয়েছে এবং সাত স্তরের পুরানো কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন ছয় স্তরের কর কাঠামো চালু হবে।